ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২০৮৯ জন
দেশে ভয়াবহ রূপ নেওয়া এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নতুন করে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একই সময়ে নতুন করে ২ হাজার ৮৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ সারা দেশে মশক নিধন জোরদারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশের হাসপাতালগুলোতে দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বাড়ছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে একটি বড় অংশই গুরুতর অবস্থায় পৌঁছাচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সঠিক সময়ে হাসপাতালে না আসার কারণে রক্তে প্লাটিলেট কমে গিয়ে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
ঢাকার প্রধান ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর জন্য বিকল্প শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও এডিস মশার বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতেও প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
ভারী বৃষ্টিপাত ও জায়গায় জায়গায় পানি জমে থাকা এডিস মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব ও পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি মশার লার্ভা তৈরির নিখুঁত প্রজননক্ষেত্র।
বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। কার্যকর মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি নাগরিকদের নিজস্ব আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
হঠাৎ তীব্র জ্বর, চোখ ও মাথায় ব্যথা, বমি ভাব অথবা শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। প্রথম দিন থেকেই প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার, ডাবের পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রাতে ও দিনে ঘুমানোর সময় মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রতিটি পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক করা উচিত। যেকোনো জটিলতা এড়াতে ডেঙ্গু পরীক্ষা (NS1 Antigen) দ্রুত করিয়ে নেওয়া ভালো।





