জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি, এবার দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিশ্চিত করার দাবিতে নতুন দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ব্যাপক ধরপাকড়ের পর ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশে। রাজধানী স্তব্ধ করে শত শত নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পরই এই রাজপথের লড়াইকে ভারতজুড়ে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে তরুণ রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
ভারতের সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কোটি কোটি বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার চক্রান্ত চলেছে। এ কারণেই তারা সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ দাবি করছে। নির্বাচন নিরপেক্ষ রাখার শপথ যে কর্মকর্তা ভঙ্গ করেছেন, তিনি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে ককরোচ জনতা পার্টি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
নয়াদিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার আন্দোলনকারীদের সরাতে শুক্রবার থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী। হাজার হাজার তরুণ রাজপথে নেমে এলে পুলিশ সাঁজোয়া যান ও ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ রুদ্ধ করে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গণগ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়ে আন্দোলনকারীরা গর্জে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কঠোর পদক্ষেপের পরও আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে রাজি হয়নি।
পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে আন্দোলন দমানোর চেষ্টাকে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে সিজেপি নেতৃবৃন্দ। দলের সহ-সংগঠকদের বার্তা, রাজপথের লড়াই জেলে বন্দি করে থামানো সম্ভব নয়। সংগঠনের প্রতিনিধিরা এক জরুরি বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে এবং আন্দোলন এখন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ভারতের প্রতিটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়বে। শত বাধা সত্ত্বেও রাজপথে অনড় থাকার এই ঘোষণা পুরো দেশের তরুণ ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন উদ্যোমের জন্ম দিয়েছে।





