জনগণের প্রত্যাশার সরকার গড়ার অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশের মানুষ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার যে প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল, বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো মানুষের আস্থা রক্ষা করা। শুধু নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনে যে হতাশা ও অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে সরকারকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিয়াম ফাউন্ডেশনের নতুন ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আধুনিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের মান উন্নত হলে প্রশাসনিক সেবাও আরও কার্যকর হবে। নতুন এই ভবন সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক বৈধতার বার্তা রয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক সংস্কার ও জনআস্থার পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতিও স্পষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর একটি নির্বাচিত সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, সুশাসনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গণতন্ত্রের শক্তি শুধু নির্বাচনে নয়, বরং নির্বাচনের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত। জনগণ এখন উন্নয়ন ও সুশাসনের দৃশ্যমান ফল দেখতে চায়।





