ঘূর্ণিঝড়ে টিনের চালসহ ৩০ ফুট শূন্যে উড়লেন প্রৌঢ়
উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে প্রকৃতির এক ভয়াবহ তাণ্ডব প্রত্যক্ষ করল বিশ্ব। বুধবার জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে টিনের চাল ধরে রাখতে গিয়ে মালিক নিজেই উড়ে গেলেন শূন্যে। প্রায় ৩০-৪০ ফুট উচ্চতায় টিনের পাতের সঙ্গে দুলতে থাকা ওই ব্যক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার অন্তর্গত ভামোরা থানার বামিয়ানা গ্রামে বুধবার বিকেলে আকাশ হঠাৎ কালো করে নামে দুর্যোগ। প্রবল বেগে বইতে শুরু করে ঝোড়ো হাওয়া, যা মুহূর্তেই ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। গ্রামের বাসিন্দা নানহে মিয়া তার বাড়ির টিনের চালাটি প্রবল বাতাসে কেঁপে উঠতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। টিনের চালটি যাতে উড়ে না যায়, সেই আশায় তিনি একটি শক্ত দড়ি দিয়ে সেটি ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন।
কিন্তু প্রকৃতির শক্তির কাছে মানুষের প্রচেষ্টা যে কতটা অসহায়, তার প্রমাণ মিলল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। বাতাসের গতিবেগ এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, দড়িটি ছিঁড়ে যায় এবং টিনের বিশাল পাতের টানে নানহে মিয়া মাটির মায়া ত্যাগ করে শূন্যে উঠে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট উপরে উঠে গিয়েছিলেন। প্রায় ৫০ ফুট দূরে আছাড় খেয়ে পড়েন ওই অসহায় ব্যক্তি।
অলৌকিক বেঁচে ফেরা ও বর্তমান অবস্থা
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নানহে মিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণাকাতর কণ্ঠে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“আমি কেবল আমার ঘরটুকু বাঁচাতে চেয়েছিলাম। ভাবিনি বাতাসের জোর আমাকেও উড়িয়ে নিয়ে যাবে। দড়িটা শক্ত করে ধরেছিলাম চালটা আটকানোর জন্য, কিন্তু এক ঝটকায় সব ওলটপালট হয়ে গেল। ওপর থেকে যখন নিচে পড়ছিলাম, মনে হয়েছিল এটাই হয়তো শেষ দেখা।”
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অত উঁচু থেকে আছাড় খেলেও নানহে মিয়ার প্রাণহানি ঘটেনি, যা একপ্রকার অলৌকিক। তবে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর চোট লেগেছে এবং হাড়ে চিড় ধরেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, টিনের পাতটি অনেকটা ঘুড়ির মতো বাতাসে ভাসছে আর তার নিচ থেকে নানহে মিয়া ঝুলে রয়েছেন। এই দৃশ্যটি যেমন শিহরণ জাগানিয়া, তেমনি এটি বড় ধরনের সতর্কবার্তাও প্রদান করে। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় বা টর্নেডো সদৃশ বাতাসের সময় কোনো হালকা পরিকাঠামো (যেমন টিনের চাল বা বিজ্ঞাপনের হোর্ডিন) ধরে রাখার চেষ্টা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বেরেলির এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দিন দিন আরও চরম ও অননুমেয় হয়ে উঠছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে এই ভিডিওটি দেখার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপসংহারে বলা যায়, নানহে মিয়া হয়তো প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, কিন্তু তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রকৃতির অসীম ক্ষমতার সামনে মানুষের সীমাবদ্ধতাকে আবারও নগ্নভাবে প্রকাশ করল।





