ইডেনে অ্যালেন-ঝড়: দ্রুততম সেঞ্চুরিতে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কার্যত সুযোগই দিল না নিউজিল্যান্ড। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ফিন অ্যালেনের ইতিহাসগড়া দ্রুততম সেঞ্চুরি ও টিম সেইফার্টের ঝোড়ো ফিফটিতে ৪৩ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় কিউইরা।
বুধবার (৪ মার্চ) ইডেন গার্ডেন্স–এ একতরফা এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয় তাদের ফাইনাল।
দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১৬৯ রান তোলে। শুরুটা মোটামুটি হলেও মাঝের ওভারে কিউই বোলারদের শৃঙ্খলিত বোলিংয়ে রানপ্রবাহ আটকে যায়। শেষ দিকে কয়েকটি বড় শটে সংগ্রহটা লড়াকু পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ১৭০ যে খুব নিরাপদ নয়, সেটিই প্রমাণ করে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার।
ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। প্রোটিয়া পেসারদের লেন্থ ও লাইনে সামান্য ভুল হলেই বল উড়েছে গ্যালারিতে। পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে অর্ধশত ছাড়িয়ে যায় কিউইরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের পরিকল্পনা যেন ভেস্তে যায় শুরুতেই।
বিশেষ করে অ্যালেন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। শর্ট বল টেনে, ফুল লেন্থ ড্রাইভে কিংবা স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়ে—সব দিকেই সমান দক্ষতা দেখান তিনি। মাত্র কয়েক ওভারেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ১০০ রানে অপরাজিত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাঁর ইনিংস ছিল শক্তি, সময়জ্ঞান ও নির্ভুল শট নির্বাচনের এক অনন্য প্রদর্শনী।
অন্য প্রান্তে সেইফার্টও কম যাননি। দায়িত্বশীল অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ফিফটি পূর্ণ করে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি। একমাত্র উইকেটটি পড়ার পরও ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারের আগেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা এদিন ছন্দ খুঁজে পাননি। লাইন-লেন্থে ধারাবাহিকতা ছিল না, ফিল্ডিংয়েও দেখা যায় অস্থিরতা। বড় মঞ্চে চাপ সামলাতে না পারার পুরনো দুর্বলতা যেন আবার সামনে আসে। বিপরীতে, নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা এবং রানরেটের লাগাম নিজের হাতে রাখা।





