‘আমি এখন আর আমার দেশকে চিনতে পারি না’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টক শো ‘জিমি কিমেল লাইভ!’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোবিজ জগতে তোলপাড় চলছে। এরই মধ্যে স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে নতুন সিনেমা ‘কুত্যুর’র প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সান সেবাস্তিয়ান উৎসবের সংবাদ সম্মেলনে জোলি বলেন, “আমি এখন আর আমার দেশকে চিনতে পারি না।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাকস্বাধীনতার ওপর হুমকি এবং বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “যেকোনো কিছু যা মানুষের ব্যক্তিগত প্রকাশ ও স্বাধীনতাকে সীমিত করে বা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে, তা ভয়ংকরভাবে বিপজ্জনক।”
একজন শিল্পী ও মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় কী—এমন প্রশ্নের জবাবে জোলি বলেন, “এটি খুব কঠিন প্রশ্ন। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি, কিন্তু এখন আমার দেশকে চিনতে পারছি না। আমার জীবন, পরিবার, বন্ধুরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে। এখন সময় এতটাই গুরুতর যে কিছুই না ভেবে বলা যায় না। আমরা সবাই একসঙ্গে একটি কঠিন ও অন্ধকার সময় পার করছি। এটি শুধু মার্কিনদের নয়, সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং।”
‘কুত্যুর’ সিনেমাটি একজন মার্কিন নারী চলচ্চিত্র পরিচালকের গল্প নিয়ে নির্মিত, যিনি প্যারিসের ফ্যাশন জগতে নিজের জায়গা তৈরির লড়াই করছেন। এর মধ্যে তাঁর জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ফরাসি নির্মাতা অ্যালিস ভিনোকুর পরিচালিত এই সিনেমার প্রথম প্রিমিয়ার হয় গত ৭ সেপ্টেম্বর টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে। সান সেবাস্তিয়ানে এটি দ্বিতীয়বার প্রদর্শিত হলো, যেখানে জোলির উপস্থিতি দর্শক ও গণমাধ্যমের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
জোলি আরও জানান, এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি শিল্পীদের সংগ্রাম ও স্বাধীনতার গল্প তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, “এই গল্পটি শুধু ফ্যাশন বা প্যারিসের নয়, এটি একজন নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ের কথা বলে।”
সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে এবং এটি জোলির ক্যারিয়ারে আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জোলির মতো অনেক শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী মনে করছেন, বর্তমান প্রশাসনের নীতি দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐক্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। ‘জিমি কিমেল লাইভ!’ বন্ধ হওয়াকে অনেকে এই বিভাজনেরই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।





