স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি এনসিপির
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একমাত্র যোগ্যতা তিনি ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বুধবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সড়কে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা চাঁদপুর সার্কিট হাউজে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় নিহত ৩১ জনের স্মরণে শোক র্যালিতে অংশ নেন। এই দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ছিলেন শিশু, যা দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ভাই হিসেবে ‘ব্রাদার কোটায়’ নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কিছুই বোঝেন না। তার কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই, অথচ জনগণের টাকায় বেতন ও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এটি জনগণের সঙ্গে বেইমানি।” তিনি আরও বলেন, “তিনি নিজের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান, অথচ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দায়িত্বে আছেন। তাকে পদত্যাগ করে বেতন ফেরত দিতে হবে।”
মাইলস্টোনের বিমান দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, “এই বিমানগুলো হাসিনা সরকারের আমলে কেনা হয়েছিল। তখন হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। আমরা বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। তাদের সরঞ্জাম ঝুঁকিমুক্ত কি না, তা পরীক্ষা করা দরকার।” তিনি এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
এনসিপির এই নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ এই দুর্ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে। আমরা শোকাহত, কিন্তু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে প্রতিহত করবো।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জনগণের প্রতিক্রিয়া
চাঁদপুরের সমাবেশে উপস্থিত একজন শিক্ষার্থী, রাকিব হাসান, বলেন, “স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকলে তিনি কেন পদে আছেন? এটা জনগণের টাকার অপচয়।” স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “বিমান দুর্ঘটনার পর সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দেওয়া।”
সরকারের অবস্থান
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করব এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা দেব।” তবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদত্যাগ প্রসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা ও এনসিপির বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এবং দুর্ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতার দাবি জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে।





