সিআইডির নামে ‘ভুয়া নোটিশ; সতর্ক থাকার অনুরোধ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নামে ভুয়া নোটিশ/সার্টিফিকেট প্রচার করা হচ্ছে। এই ভুয়া নথিতে সাইবার অপরাধ, পর্নোগ্রাফি, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করার চেষ্টা চলছে। সিআইডি জনগণকে এই ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সিআইডির নামে ভুয়া নোটিশ প্রচার করা হচ্ছে। এতে অভিযোগ দেখিয়ে লোকজনকে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং টাকা আদায়ের চেষ্টা হচ্ছে। এই নোটিশ সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের ভুয়া নোটিশের মাধ্যমে জনগণকে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে। উক্ত নোটিশ/সার্টিফিকেট দ্বারা কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।”
সিআইডি এরই মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং উক্ত ভুয়া নোটিশ প্রস্তুত ও প্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই নোটিশগুলোতে সাইবার অপরাধ, পর্নোগ্রাফি, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ইত্যাদি অভিযোগ দেখিয়ে লোকজনকে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং টাকা আদায়ের ফাঁদ পাতা হচ্ছে।
বাংলাদেশে সামাজিক মিডিয়ায় ভুয়া নোটিশ ও স্ক্যামের ঘটনা বেড়েছে। গত মাসে সিআইডির নামে টেলিগ্রাম গ্রুপে ‘টিএমএফই’ স্ক্যামে ২০,০০০ কোটি টাকা লুট হয়েছে। এছাড়া ফেসবুক অ্যাডস, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও ফেক অ্যাপস দিয়ে শেয়ারবাজার স্ক্যামে হাজারো বিনিয়োগকারী প্রতারিত হয়েছে। সিআইডি এবার ১২ জন বিদেশি স্ক্যামার গ্রেফতার করেছে এবং ৫-৬ কোটি টাকা ফেরতের চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভুয়া নোটিশগুলো সাইবার অপরাধ আইন-২০২৩-এর ২৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য, যাতে ৭ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।





