সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পদ জব্দে দুদকের নতুন পদক্ষেপ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হচ্ছে। দুদকের আবেদনের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালত জয়ের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে, যা কার্যকর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের নথি অনুযায়ী, জয়ের নামে ভার্জিনিয়া রাজ্যে দুটি বাড়ি রয়েছে। গ্রেট ফলসে একটির মূল্য ২০২৪-এ ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ ডলার (৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬৬১ টাকা), আর ফলস চার্চে অন্যটির মূল্য ২০১৪-এ ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৫ ডলার (৭ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪০৬ টাকা)—মোট ৫৩ কোটি ২১ লাখ ৬১ হাজার ৬৭ টাকা। তদন্তে জানা গেছে, জয়ের নামে আটটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে মার্সিডিজ-বেঞ্জ, ম্যাকলারেন ৭২০ এস ও লেক্সাস জিএক্স ৪৬০ (সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনার নামে নিবন্ধিত)। এদের মোট মূল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯২৪ ডলার (৫ কোটি টাকা), যা আদালত জব্দের অনুমোদন দিয়েছে।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের ১২টি ব্যাংক হিসাব ও ৬টি কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে: গোল্ডেন বেঙ্গল প্রোডাকশন্স এলএলসি, প্রাইম হোল্ডিং এলএলসি, ওয়াজেদ ইন অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনার্স এলএলসি, ব্লু হ্যাভেন ভেঞ্চারস এলএলসি, ট্রুপে টেকনোলজিস এলএলসি। ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে সাতটি এসব কোম্পানির নামে, ৫টি সজীব ওয়াজেদের ব্যক্তিগত, যার মধ্যে একটি যৌথ হিসাবে খোলা হয়েছে তার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে।
গত ১৪ আগস্ট জয়ের বিরুদ্ধে ৬০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে অভিযোগ হয় ২০০০-২০২৪ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন ও বিদেশে পাচার। দুদক জানায়, জয় আয়করে বিদেশি আয় গোপন করেছেন এবং অননুমোদিত বিনিয়োগ ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এসব সম্পদ আলামত হিসেবে আদালতে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হবে। এ পদক্ষেপ গত ৫ আগস্ট গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার ভারতে পলায়ন ও জয়ের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।





