শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে সম্প্রীতির বাণী: ড. ইউনূসের শুভেচ্ছা, ঢাকায় গীতাযজ্ঞ ও মিছিল
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর এই শুভ আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী হিসেবে উদযাপিত হয়।
যখন পাশবিক শক্তি ন্যায়, সত্য ও সুন্দরকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন মানবজাতির কল্যাণ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে তিনি বলেন, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন কেউ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শ্রীকৃষ্ণ আজীবন ন্যায়, মানবপ্রেম ও শান্তির বাণী প্রচার করেছেন। তিনি যেখানেই অন্যায়-অবিচার দেখেছেন, সেখানেই শুভশক্তিকে রক্ষা করতে অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছে। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ভরপুর একটি বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আজ সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় শ্রীশ্রী গীতাযজ্ঞ, বেলা ৩টায় কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল এবং রাতে শ্রীকৃষ্ণপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরিষদ ও কমিটি আরও জানায়, রাজধানীর পলাশীর মোড়ে আজ বেলা ৩টায় কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন করবেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান।





