বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়নি
### বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের তাণ্ডব: ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ নয়, ভারী বৃষ্টির ছড়াছড়ি!
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়ে প্রথমে নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, কিন্তু এটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়নি। আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, কিছু গণমাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ সৃষ্টির খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা ভুল। মার্কিন নৌবাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বরাত দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু অঞ্চলভিত্তিক আবহাওয়া পরিভাষায় পার্থক্য রয়েছে। উত্তর আটলান্টিকে ঝড়কে ‘হারিকেন’ বলা হয়, যেমন আমাদের অঞ্চলে ‘সাইক্লোন’। তাদের সতর্কবার্তার অনুবাদে ‘ঘূর্ণিঝড়’ শব্দটি এসেছে, কিন্তু বাস্তবে এটি গভীর নিম্নচাপই রয়ে গেছে। আবহাওয়া সংক্রান্ত শব্দ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি, এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় সারা দেশে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ অবস্থান করছে, এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয়। এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ৪৪-৮৮ মিলিমিটার ভারী বর্ষণ থেকে ৮৯ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুপুরে এই গভীর নিম্নচাপ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৮১০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ৬৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাত ৯টার দিকে গোপালপুর ও পারাদীপের মধ্যবর্তী ওড়িশা এবং সংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। সর্বশেষ আপডেট অনুসারে, এটি উত্তর ওড়িশা এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে পুরী থেকে সাগর দ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকায় ৩ অক্টোবর সকালে ল্যান্ডফল করতে পারে, এবং তখনও গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই থাকবে। ওড়িশায় ভারী বৃষ্টির কারণে ৭টি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে, যেমন পুরী, খুর্দা, গঞ্জাম প্রভৃতি। পশ্চিমবঙ্গে কলকাতায়ও ভারী বৃষ্টি চলছে, যা বিজয়া দশমীর উৎসবকে ম্লান করে দিয়েছে।
এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করছে, এবং উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রে ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২-৪ অক্টোবর পর্যন্ত পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের আবহাওয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে।





