জাতীয় ফিচার

নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেছেন, পুলিশ বাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতদুষ্ট রক্ষাকারী নয়— তারা সম্পূর্ণভাবে জনগণের অর্থে চালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সদস্য। এদের প্রধান কাজ জনসাধারণের সেবা দেওয়া এবং দেশে আইনের শাসন টিকিয়ে রাখা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা অনেকটাই মাঠের পুলিশ সদস্যদের আচরণ ও পেশাদারিত্বের ওপর নির্ভরশীল। কেবল জোর-জবরদস্তি দিয়ে শান্তি বজায় রাখা যায় না; জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করাই মূল চাবিকাঠি। পুলিশ বাহিনীকে তিনি জানান যে, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এজন্য প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনকালীন বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি কঠোরভাবে নির্দেশ দেন যে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কোনো প্রকার অনৈতিক সুবিধা, আপ্যায়ন বা প্রার্থী/এজেন্টদের কাছ থেকে খাবার-দাবার গ্রহণ করা একেবারে নিষিদ্ধ। কেন্দ্রে যদি কোনো অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তাহলে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা মেনে দৃঢ়ভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, বাংলাদেশ পুলিশকে একটি সাধারণ বাহিনী হিসেবে দেখা যাবে না— এটি রাষ্ট্র ও জনগণের প্রকৃত সেবক। নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে পুলিশের ভিত্তি হবে জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ড, উচ্চ নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং জনবান্ধব মনোভাব। দুর্নীতিকে তিনি রাষ্ট্রের সবচেয়ে মারাত্মক শত্রু বলে অভিহিত করে বলেন, এটি প্রতিষ্ঠানকে অভ্যন্তরীণভাবে ক্ষয় করে এবং জনগণের ভরসা নষ্ট করে দেয়। যদি কোনো পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগত লাভ বা রাজনৈতিক স্বার্থে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়, তাহলে সে রাষ্ট্রের মূল স্তম্ভকেই দুর্বল করে ফেলে। অন্যায় নির্দেশ বা পক্ষপাতমূলক কাজে জড়ানো যাবে না বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, কর্মজীবনে চাপ, সমালোচনা বা প্রলোভন আসতেই পারে, কিন্তু সততা ও দেশপ্রেম থাকলে কিছুই বাধা হয় না। আজকের এই নতুন কর্মকর্তারা শুধু বর্তমানের পুলিশ নন— তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ পুলিশের মুখ। জনগণের ত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নকে সম্মান করে দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ, মানবিক ও সাহসী একটি গর্বিত পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী বিপিএম।

এই ব্যাচে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ ক্যাডার) এর ৮৭ জনসহ মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী (অন্যান্য ব্যাচ থেকেও কয়েকজন) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে মাঠে যোগ দিচ্ছেন। প্যারেড কমান্ডার ছিলেন শিক্ষানবিশ এএসপি ধীমান কুমার মন্ডল।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র