দেশে হামের প্রকোপে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু
দেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হাম এবং এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১টি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে দুজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে, আর বাকি ৯ জন মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ এক নীরব সংকটের রূপ ধারণ করেছে। সাধারণত টিকাদানের উচ্চ হারের কারণে আমাদের দেশে হামের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকত। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মাঠপর্যায়ে টিকাদানের ঘাটতি অথবা ভাইরাসের নতুন কোনো ধরনের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। হাসপাতালে প্রতিনিয়ত হামের লক্ষণ—যেমন তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি এবং চোখ লাল হওয়া নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় দেখা দিচ্ছে মারাত্মক নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া, যা শেষ পর্যন্ত শিশুদের মৃত্যুর কোলে ঢেলে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের মধ্য-মার্চ থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে শুরু করে। গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এক ভয়াবহ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ভাইরাসের এই আকস্মিক বিস্তার রুখতে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।





