ড. ইউনূসের বিচার স্থগিতে চিঠির প্রতিবাদে ৫০ সম্পাদকের বিবৃতি
দেশের ৫০ জন সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতি মামলার বিচার স্থগিত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো খোলা চিঠিকে সার্বভৌম দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি ড. ইউনূসের বিচার স্থগিত চেয়ে বিশ্বের দেড় শতাধিক নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দেন। এ বিষয়ে বিবৃতিতে ৫০ সম্পাদক বলেন, এটি একটি সার্বভৌম দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। এ ধরনের চিঠি প্রদানের মাধ্যমে তারা অনৈতিক, বেআইনি ও অসাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ করেছেন বলে আমরা মনে করি। এ ধরনের বিবৃতি বা খোলা চিঠি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশের আইনে শ্রমিকদের প্রদত্ত অধিকার সংক্রান্ত বিধানাবলির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
দেশের ৫০ সম্পাদক মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত এবং নোবেল বিজয়ীদের এ ধরনের বিবৃতি এবং চিঠি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনৈতিক। একজন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা এবং বিচার করা যাবে না এমন দাবি ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থি। আমরা মনে করি তারা মামলা সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে এমন দাবি করেছেন। তাই আমাদের আহ্বান, তারা অথবা তাদের প্রতিনিধি এসে মামলায় ড. ইউনূসকে আদৌ হয়রানি করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের এ আহ্বান জানিয়েছেন, আমরা তা সমর্থন করি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একই চিঠিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তা স্বাধীন-সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ যে কোনো মহলের এ ধরনের অবমাননাকর, অযাচিত ও বেআইনি হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে সম্মান প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
গত সোমবার (২৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোভিত্তিক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান সিজিয়ন পিআর নিউজওয়্যার তাদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতি মামলায় ড. ইউনূসকে দণ্ড দেওয়া হতে পারে- এমন উদ্বেগ প্রকাশ করে তার বিচার স্থগিতে বিশ্বের দেড় শতাধিক নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি পাঠান। তাদের মধ্যে শতাধিক নোবেলজয়ীও ছিলেন।
এরই মধ্যে শেখ হাসিনাকে পাঠানো খোলা চিঠি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী। গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ই-মেইল মাধ্যমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনসহ ৯ জন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তির উদ্দেশে এ চিঠি পাঠানো হয়।
সূত্রঃ বাসস
আরও পড়ুনঃ হাইপোথাইরয়েডিজমের সমস্যায় ভুগলে খাবারগুলো থেকে দূরে থাকুন





