ডাকসু নির্বাচন: নির্ভয়ে ভোট দিতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান উপাচার্যের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। এই নির্বাচনকে তিনি ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেল পৌনে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় উপাচার্য বলেন, “ডাকসু তোমরা চেয়েছো, গভীরভাবে প্রত্যাশা করেছো। এটি গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য একটি সমন্বিত কণ্ঠ তৈরির সুযোগ। নির্ভয়ে ভোট দিতে আসো, আমরা তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সারাদেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের উত্তরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে তোমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “নারী শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। তাদের জন্য ভোটকেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
উপাচার্য জানান, প্রায় ১১ মাসের ব্যাপক প্রস্তুতির পর এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৩৯,৮৭৪ জন ভোটার অংশ নেবেন, যার মধ্যে ১৮,৯৫৯ জন ছাত্রী এবং ২০,৯১৫ জন ছাত্র। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৮টি এবং হল সংসদের ১৩টি পদে ভোট দিতে হবে প্রত্যেক ভোটারকে।
এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “প্রথমবারের মতো হলের বাইরে কেন্দ্রীয়ভাবে ৮টি কেন্দ্রে ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। ৮১০টি বুথে প্রায় ৪০ হাজার ভোটার অংশ নেবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং প্রশিক্ষিত পোলিং কর্মকর্তারা নিয়োজিত থাকবেন।” তিনি জানান, ভোট গণনা এলইডি স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতার বিষয়ে তিনি বলেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিভিন্ন মতাদর্শের হলেও সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।” প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে। বিজয়ী ও বিজিত উভয়েরই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হবে।”
ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৪০৯ জন পুরুষ এবং ৬২ জন নারী। এই নির্বাচন শুধু শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যম নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। উপাচার্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা কীভাবে এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে অংশ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





