প্রযুক্তি ফিচার

চাঁদে শুধু সফর নয়, স্থায়ী বসতির মহাপরিকল্পনা নাসার!

চাঁদে শুধু সফর নয়, স্থায়ী বসতির মহাপরিকল্পনা নাসার!

চাঁদে ঘুরে আসার যুগ পেরিয়ে এবার সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘ইগনিশন’ অনুষ্ঠানে প্রকাশিত এই মহাপরিকল্পনায় নিয়মিত নভোচারী পাঠানো ও মহাকাশের আরও গভীরে অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চাঁদ মানবজাতির কৌতূহলের কেন্দ্র হলেও, এবার সেটিকে স্থায়ীভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে নাসা। সংস্থাটির নতুন ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদে শুধু পরীক্ষামূলক অবতরণ নয়, বরং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সেখানে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিশ্চিত করা হবে।

এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় মহাকাশ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নাসার নতুন প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখতে দ্রুত অগ্রগতি জরুরি। তাঁর ভাষায়, “এই প্রতিযোগিতা এখন বছরের নয়, মাসের হিসাবেই নির্ধারিত হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চীন ও অন্যান্য দেশও চাঁদে নিজেদের উপস্থিতি জোরদারের পরিকল্পনা করছে। ফলে চাঁদ এখন কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্র নয়, বরং কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার নতুন মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

নাসার পরিকল্পনার একটি বড় দিক হলো—মিশনের ধরনে পরিবর্তন। আগে যেখানে দীর্ঘ বিরতির পর বড় মিশন পরিচালনা করা হতো, এখন সেখানে ঘন ঘন অভিযান চালানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য ল্যান্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা খরচ কমানোর পাশাপাশি অভিযানের গতি বাড়াবে।

এই মহাপরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘আর্টেমিস’ প্রোগ্রাম। ২০২৭ সালে ‘আর্টেমিস ৩’ মিশনের মাধ্যমে নভোচারীদের চাঁদে পাঠানো হবে। এর পর প্রতি ছয় মাস অন্তর নতুন মিশন পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক উপস্থিতিই চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের ভিত্তি তৈরি করবে।

চাঁদে ঘাঁটি স্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহসহ আরও দূরবর্তী গন্তব্যে অভিযান পরিচালনা সহজ হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, চাঁদকে একটি ‘স্টেজিং গ্রাউন্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে মহাকাশযান পুনরায় জ্বালানি নেওয়া ও সরঞ্জাম প্রস্তুতের সুযোগ পাওয়া যাবে।

তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিগত জটিলতা, বিপুল ব্যয় এবং মানবদেহের ওপর মহাকাশের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব—এসব বিষয় এখনো বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। তবুও নাসা আশাবাদী, ধারাবাহিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বিমানবন্দরে হচ্ছে বাফার জোন

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বিমানবন্দরের বাফার জোন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। অর্থাৎ সেখানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এটিঅ্যান্ডটি ও ভেরাইজন
জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর