গাজায় হামলা অব্যাহত রাখলে ইসরাইলের পাশে থাকবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি
ইসরাইল গাজা উপত্যকায় ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক অভিযান জোরদার করায় যুক্তরাষ্ট্রসহ তার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো সমর্থন প্রত্যাহার করতে পারে বলে সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এই দাবি অস্বীকার করেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধ শেষ করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র তেল আবিবের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে না।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এবং গাজায় মানবিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। গাজায় ইসরাইলি হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু এবং ত্রাণ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনা আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তার পথে বাধা অব্যাহত থাকলে মার্কিন সমর্থন কমে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ অর্জনের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, এই অভিযানের ফলে গাজার জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্র দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “আমরা ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু গাজায় মানবিক বিপর্যয় এড়াতে হবে।”
অন্যদিকে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অস্বীকার করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।” তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী মুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরাইলের রাজনৈতিক মহল এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান, “নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জটিল হয়ে পড়েছে।” গাজায় চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার প্রাণহানি এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সতর্কবার্তা ইসরাইলের নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর হোসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইসরাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে, গাজায় মানবিক সংকটের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে রয়েছে, যা তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে।”
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি।





