ফিচার স্বাস্থ্য

খালি পেটে কাঁচা হলুদ ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়

খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে, যা ক্যানসারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে হলুদ বহুদিন ধরেই রান্না ও ভেষজ চিকিৎসার অপরিহার্য উপাদান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়ার প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের একটি অংশ বলছেন, এটি নিয়মিত খাওয়া হলে শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হলুদের প্রধান কার্যকর উপাদান কারকিউমিন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদানটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে। একই সঙ্গে এটি প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণে আরও জানা যায়, নিয়মিত কাঁচা হলুদ খেলে শরীরের কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমার তৈরির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে অন্ত্র, স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে কারকিউমিনের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, এটি কোনোভাবেই চিকিৎসার বিকল্প নয়।

এছাড়া খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়া হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। এটি লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে লিভারজনিত রোগের ঝুঁকিও কমতে পারে।

তবে সব সুবিধার পাশাপাশি কিছু সতর্কতাও রয়েছে। অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা হলুদ খেলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা, অ্যাসিডিটি বা পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পিত্তথলির সমস্যা বা রক্তপাতজনিত জটিলতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়া উচিত নয়।

পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা হলুদ খাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অল্প পরিমাণে নিয়মিত গ্রহণ করা। অনেকেই এক টুকরো কাঁচা হলুদ বা সামান্য গুঁড়া গরম পানির সঙ্গে খালি পেটে খেয়ে থাকেন। এর সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে কারকিউমিনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ে বলেও জানা যায়।

খালি পেটে কাঁচা হলুদ খাওয়া নিঃসন্দেহে একটি উপকারী অভ্যাস হতে পারে, তবে এটি কোনো ‘ম্যাজিক সমাধান’ নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও চিকিৎসকের পরামর্শের সঙ্গে মিলিয়েই এর প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব। সচেতনতা ও পরিমিতিই এখানে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার