জাতীয় ফিচার

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত: অত্যাবশ্যক তালিকায় ২৯৫টি ওষুধ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করে তাতে ওষুধের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯৫টি করা হয়েছে। একইসাথে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের নতুন নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত সকল ওষুধ সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক সভায় এই দুটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তি ও ব্যয়ের ওপর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ডা. সায়েদুর রহমান জানান, ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতি দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সালে মাত্র ১১৭টি ওষুধে মূল্য নিয়ন্ত্রণ সীমিত করায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ওষুধের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৩০০টিতে পৌঁছেছে। ফলে ওষুধের দামে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশই ওষুধে চলে যাচ্ছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। দেশে স্বাস্থ্য বিমা বা জাতীয় সুরক্ষা কাঠামো না থাকায় এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

নতুন তালিকায় আগের তুলনায় ১৩৬টি ওষুধ যোগ করা হয়েছে (কিছু সূত্রে ১৩৫টি উল্লেখ আছে)। এতে সংক্রামক থেকে অসংক্রামক রোগের (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ) ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের বর্তমান রোগের প্রকোপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে কিছু নতুন ক্যান্সার ওষুধ বাদ পড়েছে।

মূল্য নির্ধারণে নির্দিষ্ট ফর্মুলা অনুসরণ করা হবে, যাতে কাঁচামালের খরচ, উৎপাদন ব্যয় ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা বিবেচনা করা হবে। যেসব কোম্পানির বর্তমান দাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি, তাদের চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সমন্বয় করতে হবে, যাতে শিল্পখাত মানিয়ে নিতে পারে।

অত্যাবশ্যক তালিকার বাইরের প্রায় ১১০০ ওষুধের ক্ষেত্রে: যদি সাতটির বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে ১৫ শতাংশের মধ্যে দাম রাখতে হবে। সাতটির কম হলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রেফারেন্স প্রাইসিংয়ের ভিত্তিতে (পিপিপি সমন্বয় করে) সরকার অনুমোদন দেবে। নতুন, প্যাটেন্টযুক্ত ও বায়োলজিক্যাল ওষুধের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি ও সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে গবেষণা ও বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়।

ডা. সায়েদুর রহমান জানান, শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। ভবিষ্যতে ওষুধের দাম নির্ধারণ ও নজরদারির জন্য স্বাধীন ‘ন্যাশনাল ড্রাগ প্রাইসিং অথরিটি’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত এ দায়িত্ব পালন করবে ড্রাগ প্রাইস ফিক্সেশন কমিটি। এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে ওষুধের সহজলভ্যতা বাড়বে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা যায়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র