এপস্টাইন কাণ্ডের তদন্ত সংক্রান্ত নথি প্রকাশ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফরি এপস্টাইনের কুখ্যাত যৌন অপরাধ কাণ্ডের তদন্ত সংক্রান্ত ৩০ লক্ষাধিক পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উঠে এসেছে অদ্ভুত দাবিতে, বিল গেটস ও ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টাইনের গভীর যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে, এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ছবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই প্রকাশ ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি ঘটেছে, যা এপস্টাইনের মৃত্যুর পর সবচেয়ে বড় নথি উন্মোচন।
এপস্টাইন, যিনি ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেছিলেন, ছিলেন একজন ধনকুবের যৌন অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে নাবালিকা মেয়েদের যৌন শোষণ ও ট্র্যাফিকিংয়ের অভিযোগ ছিল। এই নথিগুলোতে বিভিন্ন ই-মেল, ছবি, ভিডিও ও তদন্তের বিবরণ রয়েছে, যা এপস্টাইনের শক্তিশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ছবি তুলে ধরে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এগুলো ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে প্রকাশিত, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, অনেক দাবি অপ্রমাণিত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উঠে এসেছে এপস্টাইনের একটি দাবিতে, যেখানে বলা হয়েছে মোদী ইসরায়েলে ‘নাচ এবং গান’ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুবিধা করেছেন। এটি একটি অদ্ভুত এবং অপ্রমাণিত অভিযোগ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘দোষী অপরাধীর আজগুবি কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং বলেছে, এটি সম্পূর্ণ উপেক্ষণীয়। নথিতে আরও উল্লেখ আছে অনিল আম্বানির সঙ্গে এপস্টাইনের যোগাযোগ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের ২০০৯ সালের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, কিন্তু কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই।
বিল গেটসের সঙ্গে এপস্টাইনের যোগাযোগ আরও গভীর বলে মনে হচ্ছে। নথিতে একটি খসড়া ই-মেলে এপস্টাইন দাবি করেছেন যে গেটসের অতিরিক্ত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল, যা গেটস ফাউন্ডেশন অস্বীকার করেছে। গেটস আগেই স্বীকার করেছেন যে ২০১০-এর দশকে এপস্টাইনের সঙ্গে দাতব্য কাজ নিয়ে দেখা হয়েছে, কিন্তু তিনি এটিকে অনুতপ্ত বলে মেনেছেন। কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই।
ইলন মাস্কের নামও বারবার উঠে এসেছে। ২০১২-২০১৩ সালের ই-মেলে মাস্ক এপস্টাইনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে হেলিকপ্টার লজিস্টিকস এবং ‘উন্মাদ পার্টি’র উল্লেখ আছে। মাস্ক এক্স-এ বলেছেন, তাঁর যোগাযোগ খুব সীমিত ছিল এবং তিনি কোনো আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। নথিতে মাস্কের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই, কিন্তু এটি এপস্টাইনের প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের ছবি তুলে ধরে।
সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের নাম শতাধিকবার উল্লিখিত। নথিতে তাঁর সঙ্গে এপস্টাইনের ই-মেল, বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ এবং একটি ছবি আছে যেখানে তিনি এক নারীর উপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। এই ছবি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তোলপাড় তুলেছে। অ্যান্ড্রু আগেই ভার্জিনিয়া গিউফ্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং রাজকীয় উপাধি হারিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই প্রকাশের পর তাঁর উপর চাপ বাড়িয়েছেন।
এই নথিতে আরও নাম উঠে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সের্গেই ব্রিন, রিচার্ড ব্র্যানসন, স্টিভ ব্যানন প্রমুখের। ট্রাম্পের নাম হাজারবার উল্লিখিত, কিন্তু কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। বিচার বিভাগ বলেছে, অনেক দাবি অপ্রমাণিত। ভুক্তভোগীদের নাম রেড্যাক্ট করা হয়েছে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তা ফাঁস হয়েছে, যা সমালোচনার মুখে পড়েছে।





