একই ভুয়া ইএনইআই-তে চলছে লাখ লাখ ফোন, ৩.৯১ কোটি সংযোগ এক নম্বরে!
সদ্য চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ক্লোন ও নকল হ্যান্ডসেটের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছে। লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট IMEI নম্বর সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যা ডিজিটাল জালিয়াতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির গভীরতা প্রকাশ করছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের শনিবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, NEIR-এ অসংখ্য অস্বাভাবিক IMEI নম্বর শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ‘111111111111111’, ‘000000000000000’ এবং ‘999999999999999’ এর মতো সাধারণ ভুয়া নম্বরে লাখ লাখ হ্যান্ডসেট সচল রয়েছে। গত ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল ‘999999999999999’ নম্বরটির বিপরীতে বিভিন্ন পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ সক্রিয় করা হয়েছে।
ক্লোন হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণে গত ১ জানুয়ারি থেকে NEIR সিস্টেম চালু করেছে বিটিআরসি। চালুর পরপরই এই ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য সামনে এসেছে। কর্মকর্তারা জানান, বাজারে নকল ফোনের অস্তিত্ব আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু সমস্যার গভীরতা NEIR চালুর পরই পুরোপুরি স্পষ্ট হয়েছে।
ব্যবহারকারীদের অসুবিধা বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনই এসব ফোন বন্ধ করছে না। জনজীবনে বিঘ্ন এড়াতে ভুয়া IMEI-গুলোকে ‘গ্রে’ বা ধূসর তালিকায় রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
IMEI হলো ১৫ ডিজিটের একটি অনন্য পরিচয় নম্বর, যা হ্যান্ডসেটকে সিম ছাড়াই শনাক্ত করে। দেশে লাখ লাখ মানুষ নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করছেন, যেগুলোতে রেডিয়েশন বা SAR টেস্ট হয়নি। এসব ফোন চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে সক্রিয়।
শীর্ষ ডুপ্লিকেট IMEI-গুলোর মধ্যে ‘440015202000’ নম্বরে ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮টি, ‘35227301738634’ নম্বরে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৪৮টি এবং ‘35275101952326’ নম্বরে ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৫৭১টি ডিভাইস সচল। এছাড়া শূন্য ‘0’ নম্বরে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস চলছে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নম্বরে লাখের ওপরে ডিভাইস সক্রিয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভুয়া IMEI স্মার্টফোন ছাড়াও IoT ডিভাইস যেমন সিসিটিভি ক্যামেরায় ব্যবহৃত হচ্ছে। অপারেটররা এখনো মোবাইল ও IoT ডিভাইস আলাদা করতে পারে না। সমাধানে বৈধ IoT ডিভাইসকে আলাদা ট্যাগ করা শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল জালিয়াতির ৭৩ শতাংশ অনিবন্ধিত ডিভাইস দিয়ে হয়। ২০২৩ সালে e-KYC জালিয়াতির ৮৫ শতাংশ অবৈধ হ্যান্ডসেট দিয়ে ঘটেছে। একই বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মোবাইল চুরির অভিযোগ জমা পড়ে, যার বেশিরভাগ উদ্ধার হয়নি।
NEIR-এর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি বজায় রেখে এই জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফোনের বৈধতা যাচাই করতে *#06# ডায়াল করে IMEI নিয়ে KYD <স্পেস> IMEI লিখে ১৬০০২-এ এসএমএস পাঠান বা neir.btrc.gov.bd পোর্টাল ব্যবহার করুন। নতুন ফোন কেনার আগে অবশ্যই যাচাই করুন।





