উত্তরার বিমান বিধ্বস্ত: উদ্ধার কাজে ‘অনভিপ্রেত ঘটনা’, তদন্ত শুরু করল সেনাবাহিনী
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধার কার্যক্রমের সময় একটি ‘অনভিপ্রেত ঘটনা’ ঘটেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতি প্রকাশ করে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হয়েছেন।
আইএসপিআর জানায়, সোমবার দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় বিমানটি মাইলস্টোন কলেজের হায়দার আলী অ্যাকাডেমিক ভবনের ছাদে আছড়ে পড়ে, যার ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকটবর্তী ক্যাম্প থেকে সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে, উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়, যা সময়মতো আহতদের সরিয়ে নেওয়াকে কঠিন করে তোলে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিকেলের দিকে উৎসুক জনতার একাংশ বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। এটি একপর্যায়ে একটি ‘অনভিপ্রেত ঘটনা’র রূপ নেয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী, এবং দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত ১৪ জন সেনাসদস্য শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, “উৎসুক জনতার ভিড় উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।” ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট এবং ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংসাবশেষ সরাতে এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে কাজ করছে।





