আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৭৯ বছর বয়সী এই আপসহীন নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, ফুসফুসের সংক্রমণসহ নানা গুরুতর রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে তাঁকে জরুরিভিত্তিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা নিয়ে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কয়েকবার কিডনি ডায়ালাইসিসও করতে হয়। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সবশেষ জানিয়েছিলেন, ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন।
২০২৪ সালের জুনে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাঁর হার্টে পেসমেকার বসানো হয়। আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তিনি সব দণ্ড থেকে মুক্তি পান এবং চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। সেখানে লিভারের জটিলতা মোকাবিলায় টিপস (TIPS) পদ্ধতি করা হয়। প্রায় চার মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরের বেশি সময় দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে একাকী কাটান খালেদা জিয়া। কারাগারে থাকাকালীন তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হলেও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২০ সালে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান এবং বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন। ২০২১ সালে করোনা আক্রান্ত হয়ে সিসিইউতে ভর্তি হন।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকাহত।
দেশবাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির এক যুগের অবসান ঘটালো। তাঁর আদর্শ ও সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।





