অন্যের ওজন মেপে পড়ার খরচ চালায় আসিফ
চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার পরই শুরু হয় ১৪ বছরের শুভ ইসলাম আসিফের কর্মজীবন। মামার ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে রাস্তায় বসেছিল খুদে শিক্ষার্থী। সেদিন আয় হয়েছিল প্রায় ১০০ টাকা।
এখন আসিফ পড়ে মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে। গ্রামের বাড়ি বরিশালের পটুয়াখালীতে। ঢাকায় থাকে মিরপুরেরে সেনপাড়ায়। বাবা নেই, মা মানুষের বাসায় কাজ করেন। ওজন মাপা যন্ত্র দিয়ে আয় করেই নিজের লেখাশোনার খরচ চালায় আসিফ।
পড়াশোনার ফাঁকে চলছে কর্মযজ্ঞ বা এই কাজ করে চলে পড়াশোনা। তখন থেকেই স্কুল শেষে বিকেল থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত এখানেই ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে বসে থাকে। ওজন মাপতে জনপ্রতি পাঁচ টাকা করে নেয়। আগে নিতো দুই টাকা করে। সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সে পাঁচ টাকা করে নেয়। ওজন মেপে এখন দৈনিক আয় হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
আসিফ জানায়, ‘আমার বাবা নেই। মা মানুষের বাসায় কাজ করেন। তা দিয়ে কোনোমতে খাওন খরচ চলে। তাই আমি নিজের পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে রাস্তায় বসেছি। এখানেই আমি পড়ালেখা করি। স্কুল ছুটির পর বসলে বাসায় পড়ালেখা করার তেমন সুযোগ পাই না। তাই বই, ব্যাগ আর ওজন মাপার মেশিন নিয়ে একবারে চলে আসি। এখানেই পড়ালেখা করি। মানুষের ওজন মেপে আয় করি। এই আয় দিয়েই এখন পড়ালেখা করি। পড়ালেখার খরচ চালায়ে কিছু টাকাও জমা করছি ভবিষ্যতের জন্য।’
তার মামা জানান, আমার ভাগ্নে প্রায় চার বছর ধরে এ কাজ করে পড়ালেখার খরচ চালায়। প্রথমে আমার ওজন মাপার পুরাতন যন্ত্র দিয়েই শুরু করেছিল। পড়ে তার মায়ের জমানো ৯০০ টাকা দিয়ে ওজন মাপার যন্ত্র কিনে নিয়মিত কাজ করে। এই বয়সের বাচ্চারা অনেকেই নেশাখোর হয়। আমার ভাগ্নে সবার চেয়ে আলাদা।
বর্তমানে আসিফের মা আছিয়া বেগম জুতা-স্যান্ডেলের অস্থায়ী দোকান চালান। তিনি জানান, আমরা গরিব মানুষ। পোলার পড়ালেখার খরচ দিতে পারি না। পোলাই তার পড়ালেখার খরচ চালায়। মানুষের বাসায় কাম করে আর কয় টাকা আসে কন! বাজারের যে দাম। তা দিয়ে খামু, নাকি ছেলেরে পড়ামু। তবে আমার ছেলে আজ কয়েক বছর ধরে নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালায়।





