Home > অর্থ-বাণিজ্য > ইরানের বন্দর অবরোধের প্রস্তুতি ট্রাম্পের, বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

ইরানের বন্দর অবরোধের প্রস্তুতি ট্রাম্পের, বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিতের ঘোষণায় কমলো তেলের দাম

ইরানের বন্দরগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ আরোপের প্রস্তুতি নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন; এমন খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্যা ও্যাল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। উদ্দেশ্য হলো, দেশটির তেল রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ নীতিকে আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে।

এই খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় দেশটির রপ্তানি কার্যক্রমে যেকোনো বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেই সাধারণত তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। কারণ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশই এই অঞ্চলনির্ভর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থানকে অনেকেই ওয়াশিংটনের নতুন কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে বন্দর ও তেল রপ্তানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিশ্ববাজারেই বেশি অনুভূত হতে পারে।

এদিকে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের দামেও চাপ পড়ে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি নতুন মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সেই ভারসাম্যকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন।

Leave a Reply