টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বুধবার বিকেলে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক বর্ষণে নগরজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চলে হাঁটুসমান পানি জমে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। কোথাও কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পানি নামতে দেখা যায়নি।
আরও পড়ুনঃ ইরানের বন্দর অবরোধের প্রস্তুতি ট্রাম্পের, বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম
এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদী অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মেঘের ঘনত্ব বাড়ায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কোথাও কোথাও অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে পাহাড়ি ঢল যুক্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বন্যায় রূপ নিতে পারে।
সিলেট অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। কিছু এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও মৎস্যখাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।







