Home > প্রযুক্তি > স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের একাধিপত্য, স্যামসাংকে টপকে শীর্ষে আইফোন

স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের একাধিপত্য, স্যামসাংকে টপকে শীর্ষে আইফোন

স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের একাধিপত্য, স্যামসাংকে টপকে শীর্ষে আইফোন

বৈশ্বিক স্মার্টফোনের বাজারে মন্দাভাব সত্ত্বেও শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) স্যামসাংকে পেছনে ফেলে বাজারের ২১ শতাংশ হিস্যা নিয়ে রাজত্ব করছে আইফোন। আজ শুক্রবার প্রকাশিত কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের এক প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

বাজারের নাড়ি-নক্ষত্র: সংকটের মাঝেও অ্যাপলের উত্থান

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহ প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মেমরি চিপের (DRAM ও NAND) তীব্র সংকট এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির কারণে যখন অধিকাংশ ব্র্যান্ড ধুঁকছে, তখন আইফোন ১৭ সিরিজের অভাবনীয় সাফল্য অ্যাপলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে অ্যাপলের বাজার হিস্যা ছিল ১৯ শতাংশ, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশে। সাধারণত বছরের প্রথম প্রান্তিকে দক্ষিণ কোরীয় জায়ান্ট স্যামসাং শীর্ষে থাকলেও এবার তারা ২০ শতাংশ বাজার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে। গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজ উন্মোচনে বিলম্ব এবং এন্ট্রি-লেভেল বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া স্যামসাংয়ের এই অবনমনের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিযোগিতার মাঠে কে কোথায়?

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে:

  • অ্যাপল (২১%): প্রিমিয়াম সেগমেন্টে আইফোন ১৭-এর শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং চীন ও ভারতে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড সরবরাহ করেছে।

  • স্যামসাং (২০%): গত বছরের শীর্ষস্থান হারালেও উদ্ভাবনী ফোল্ডেবল ফোনের কল্যাণে দ্বিতীয় অবস্থানে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে।

  • শাওমি (১২%): তৃতীয় স্থান ধরে রাখলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে তাদের প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমেছে।

  • অপো ও ভিভো: যথাক্রমে ১১ শতাংশ এবং ৮ শতাংশ বাজার দখল করে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

নেপথ্যের কারণ ও বিশ্লেষণ

স্মার্টফোন বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে প্রধানত কাজ করছে যন্ত্রাংশের উচ্চমূল্য। কাউন্টারপয়েন্ট জানাচ্ছে, মেমরি চিপের ঘাটতি ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে অ্যাপল তাদের শক্তিশালী সরবরাহ চেইন এবং ‘ট্রেড-ইন’ বা পুরনো ফোন বদলে নতুন ফোন নেওয়ার আকর্ষণীয় অফারের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের নিজেদের ইকোসিস্টেমে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে, বিশেষত ভারত ও জাপানে আইফোনের বিক্রি আগের চেয়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, বাজেট স্মার্টফোনের বাজারে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক অনেক চীনা ব্র্যান্ডকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বাকি মাসগুলো স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। যন্ত্রাংশের দাম বাড়তে থাকায় অনেক কোম্পানি সস্তা ফোনের উৎপাদন কমিয়ে দামী বা ‘ফ্ল্যাগশিপ’ ফোনের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। গুগল এবং নাথিং-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোও ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান শক্ত করছে, যারা যথাক্রমে ১৪ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

Leave a Reply