দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার উদীয়মান তারকা শ্রীলীলা এখন খবরের শিরোনামে। ‘পুষ্পা ২’ সিনেমার আইটেম গানে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর যখন তাঁর ক্যারিয়ার তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড নিয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন তিনি। পেশায় চিকিৎসক এই অভিনেত্রীর এমন মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়।
দক্ষিণ ভারতের রুপালি পর্দায় শ্রীলীলা নামটির জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। বিশেষ করে ব্লকবাস্টার ‘পুষ্পা ২’ ছবিতে আল্লু অর্জুনের সঙ্গে পা মিলিয়ে তিনি রাতারাতি জাতীয় ক্রাশে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু গ্ল্যামার আর নাচের ছন্দের বাইরেও তাঁর একটি বড় পরিচয় হলো তিনি একজন কৃতি শিক্ষার্থী। সম্প্রতি এমবিবিএস সম্পন্ন করে চিকিৎসক হিসেবে সনদ পেয়েছেন তিনি। তবে ডাক্তার হয়েও নারীদের একান্ত শারীরিক ও হরমোনজনিত বিষয় ‘ঋতুস্রাব’ নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের একাংশ মেনে নিতে পারছেন না।
বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে
সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শ্রীলীলার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী ছিল এবং একজন নারী হিসেবে তিনি কীভাবে প্রতিকূলতা জয় করেছেন। এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের কঠোর পরিশ্রমের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব নারীদের জন্য কোনো অজুহাত হতে পারে না।” অভিনেত্রী বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি কাজে ফাঁকি দেননি বা পিছিয়ে পড়েননি। কিন্তু এই ‘অজুহাত’ শব্দটিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। সমালোচকদের মতে, একজন হবু চিকিৎসক হয়ে পিরিয়ডকালীন অসহ্য যন্ত্রণা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে ‘অজুহাত’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীলতাহীন কাজ।
নেটিজেন ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শ্রীলীলার এই মন্তব্যকে ‘প্রিভিলেজড’ বা সুবিধাপ্রাপ্ত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ বলছেন, ডিসমেনোরিয়া বা পিরিয়ডকালীন ব্যথা অনেক নারীর ক্ষেত্রে এতটাই তীব্র হয় যে, তাঁদের পক্ষে স্বাভাবিক চলাফেরা করাই কঠিন হয়ে পড়ে। শ্রীলীলার নিজের ক্ষেত্রে এটি সহজ হতে পারে, কিন্তু সবার শরীর ও সহনক্ষমতা এক নয়।
অনেকে আবার তাঁর পাশেও দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, শ্রীলীলা মূলত নারীদের কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি সক্রিয় ও জেদী হওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে চেয়েছিলেন। তবে সাংবাদিকতার নিরিখে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাবলিক ফিগার হিসেবে শব্দের চয়নে তাঁর আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল।
ঘটনার মূল পর্যায়গুলো:
সাফল্য: ‘পুষ্পা ২’ সিনেমার গানে পারফর্ম করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন।
নতুন পরিচয়: সম্প্রতি এমবিবিএস পাস করে চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ।
মন্তব্য: কর্মক্ষেত্রে ঋতুস্রাবকে ‘অজুহাত’ হিসেবে না দেখার আহ্বান।
প্রতিক্রিয়া: চিকিৎসক হয়েও পিরিয়ডের শারীরিক কষ্টকে ছোট করার অভিযোগে নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনা।
ক্যারিয়ার বনাম বিতর্ক
শ্রীলীলার ক্যারিয়ার এখন যে উচ্চতায় রয়েছে, সেখানে ছোট একটি বিতর্কও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে তিনি যখন পর্দায় নারীর ক্ষমতায়ন ও শক্তির প্রতীক হয়ে উঠছেন, তখন ব্যক্তিগত মতাদর্শে ‘সহমর্মিতার অভাব’ তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে, যেখানে ঋতুস্রাব নিয়ে এখনো অনেক ট্যাবু রয়েছে, সেখানে একজন শিক্ষিত তারকার কাছ থেকে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও মানবিক মন্তব্য আশা করেছিলেন ভক্তরা।







