ফিচার স্বাস্থ্য

শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে ‘নীরব বিপদ’!

শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে ‘নীরব বিপদ’!

ক্যালসিয়াম শরীরের হাড় মজবুত রাখা থেকে শুরু করে স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই উপাদানটি অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তৈরি হতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াকে বলা হয় হাইপার ক্যালসেমিয়া।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালসিয়াম কমে গেলে যেমন হাড় দুর্বল হয়, তেমনি অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যা ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে শরীরে একটি ‘নীরব বিপদ’ তৈরি হচ্ছে।

হাইপার ক্যালসেমিয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ, প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির অতিসক্রিয়তা, কিছু ক্যানসার এবং দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকা। বিশেষ করে নিজের ইচ্ছামতো সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার প্রবণতা এই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

এই অবস্থায় শরীরে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন—অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেশি দুর্বলতা ও ক্লান্তি। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক বিভ্রান্তি, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা অবসাদও দেখা যায়। গুরুতর অবস্থায় এটি কিডনিতে পাথর, হাড় ক্ষয় বা হৃদযন্ত্রের ছন্দে অস্বাভাবিকতা তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনির ওপর চাপ বেড়ে যায়। কারণ অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীর থেকে বের করতে কিডনিকে বেশি কাজ করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমনকি কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অনেকেই মনে করেন বেশি ক্যালসিয়াম মানেই বেশি শক্তিশালী হাড়। বাস্তবে বিষয়টি উল্টো হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম হাড় থেকে বের হয়ে রক্তে জমা হতে পারে, যা হাড়কে দুর্বল করে তোলে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ায়।

বাংলাদেশে বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও নারীদের মধ্যে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি থাকে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্তের ক্যালসিয়াম মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

মূল তথ্য এক নজরে:

  • রক্তে ক্যালসিয়াম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তাকে হাইপার ক্যালসেমিয়া বলা হয়
  • অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এর অন্যতম প্রধান কারণ
  • উপসর্গের মধ্যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি, বমি ভাব ও মানসিক বিভ্রান্তি থাকতে পারে
  • দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, হাড় ও হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গেলেই বিপদ ডেকে আনে। তাই ক্যালসিয়াম গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা, সঠিক মাত্রা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই তিনটি বিষয় মেনে চলাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার