বাড়ির সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন কোণ কোনটি? প্রশ্নটি করলে অনেকেই হয়তো গর্বভরে নিজের ড্রয়িংরুম বা শোবার ঘরের কথা বলবেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বাথরুম নিয়ে। দিনের অনেকটা সময় আমরা যেখানে কাটাই, সেই জায়গাটিই হয়ে উঠতে পারে নীরব ঘাতক।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা গেছে, শুধু বাথরুম পরিষ্কার রাখলেই হবে না, এর দরজা সারাক্ষণ বন্ধ রাখার অভ্যাসটি আসলে আমাদের অজান্তেই জীবাণুর বংশবিস্তারে সাহায্য করছে।
কেন বদ্ধ বাথরুম জীবাণুর অভয়ারণ্য?
সাধারণত আমরা মনে করি, বাথরুমের দরজা বন্ধ রাখলে ভেতরের দুর্গন্ধ বা জীবাণু বাইরে ছড়াবে না। কিন্তু আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে বাথরুমগুলোতে ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এই বদ্ধ পরিবেশই কাল হয়ে দাঁড়ায়। বাথরুম একটি অতি-আর্দ্র জায়গা। গোসল বা ব্যবহারের পর মেঝের পানি এবং বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।
যখন দরজা সারাক্ষণ বন্ধ রাখা হয়, তখন এই আর্দ্রতা বের হতে পারে না। এই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ছত্রাক (Mold) এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্য আদর্শ প্রজনন কেন্দ্র। বিশেষ করে টয়লেটের কোণা, সাবান রাখার জায়গা এবং শাওয়ার কার্টেনে এই ছত্রাক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা খালি চোখে সব সময় ধরা পড়ে না।
বাতাসের অনুপস্থিতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধ বাথরুমে আর্দ্রতা জমে থাকায় সেখানে এক ধরনের ভ্যাপসা গন্ধের সৃষ্টি হয়। এটি মূলত ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তার লক্ষণ। এই পরিবেশ শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং ত্বকের নানা সংক্রমণের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাদের বাড়িতে অ্যাজমা বা হাঁপানির রোগী রয়েছেন, তাদের জন্য এই বদ্ধ বাথরুমের বাতাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। বাতাস চলাচল না করলে টয়লেট ফ্লাশ করার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া অণুজীবগুলো বাথরুমের দেয়ালে বা তোয়ালেতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।
আপনার যা জানা জরুরি:
বাথরুমের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা প্রয়োজন:
-
আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ: ব্যবহারের পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট বাথরুমের দরজা ও জানালা খোলা রাখা উচিত যাতে দ্রুত পানি শুকিয়ে যায়।
-
ছত্রাক বৃদ্ধি: স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ছত্রাক জন্ম নিতে মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
-
এক্সজস্ট ফ্যান: বাথরুমে ভালো মানের এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার করা বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। এটি দ্রুত আর্দ্র বাতাস বাইরে বের করে দেয়।
-
ব্রাশ ও তোয়ালে: বদ্ধ বাথরুমে টুথব্রাশ বা ভেজা তোয়ালে রাখা সংক্রমণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
-
অন্ধকার ও আর্দ্রতা: সূর্যালোক না পৌঁছালে এবং দরজা বন্ধ থাকলে জীবাণুর কর্মক্ষমতা বাড়ে।
সমাধানের পথ কী?
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে কি সব সময় দরজা খোলা রাখতে হবে? বিষয়টি তেমন নয়। সাংবাদিক হিসেবে আমরা যখন বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলি, তারা একটি ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন। গোসল করার পর বা ব্যবহারের পর বাথরুম শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত দরজাটি অন্তত অর্ধেক খোলা রাখা জরুরি। যদি গোপনীয়তা বা আড়াল করার প্রয়োজন থাকে, তবে অন্তত উপরের দিকে ভেন্টিলেটর বা জানালা খোলা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
বাথরুমের মেঝে দ্রুত শুকানোর জন্য ওয়াইপার ব্যবহার করা একটি ভালো অভ্যাস। এতে আর্দ্রতা কম থাকে। এছাড়া সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক দিয়ে ভালো করে বাথরুম পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক।







