সাধারণ অসুস্থতায় আমরা যেসব ওষুধের ওপর নির্ভর করি, সেগুলোই কখনও কখনও শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, হালকা চুলকানি থেকে শুরু করে গুরুতর শ্বাসকষ্ট—ওষুধজনিত প্রতিক্রিয়া অবহেলা করলে তা জীবনঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। তাই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওষুধজনিত অ্যালার্জি একটি পরিচিত সমস্যা হলেও সচেতনতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক, এমনকি সাধারণ সর্দি-কাশির ওষুধও কিছু মানুষের শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় এবং অনেক সময় প্রথমবার ওষুধ গ্রহণের পরই তা প্রকাশ পায়।
ঢাকার একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক জানান, “ওষুধ নেওয়ার পর হঠাৎ শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চুলকানি, চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া—এসব লক্ষণকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।” তিনি বলেন, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অনেক সময় রোগীরা নিজেরাই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেয়ে থাকেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, পূর্বে কোনো ওষুধে অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলেও তা অনেকেই মনে রাখেন না বা চিকিৎসককে জানান না। ফলে একই ধরনের ওষুধ পুনরায় গ্রহণ করলে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
ওষুধজনিত অ্যালার্জির সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো ‘অ্যানাফাইল্যাক্সিস’, যা হঠাৎ করেই রক্তচাপ কমিয়ে দেয় এবং শ্বাসনালী সংকুচিত করে ফেলে। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো নতুন ওষুধ গ্রহণ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অ্যালার্জির মধ্যে পার্থক্য বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত প্রত্যাশিত এবং তুলনামূলক কম গুরুতর, কিন্তু অ্যালার্জি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যা হঠাৎ এবং তীব্র হতে পারে।
মূল তথ্যসমূহ:
- কিছু সাধারণ ওষুধেও অ্যালার্জি হতে পারে
- লক্ষণ: চুলকানি, ফুসকুড়ি, ফোলা, শ্বাসকষ্ট
- গুরুতর অবস্থা: অ্যানাফাইল্যাক্সিস (জীবনঝুঁকিপূর্ণ)
- ঝুঁকি বাড়ে: নিজে নিজে ওষুধ সেবন করলে
- করণীয়: লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিটি রোগীর উচিত নিজের ওষুধ-সংক্রান্ত ইতিহাস সংরক্ষণ করা এবং নতুন কোনো ওষুধ নেওয়ার আগে তা চিকিৎসককে জানানো। একই সঙ্গে, ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনার সময়ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।







