ইরানের সঙ্গে পুনরায় যুদ্ধ কিংবা কার্যকর কোনো সমঝোতা ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র; এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একই সঙ্গে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কোনো সামরিক বিজয় বা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন এক অবস্থানে পৌঁছাতে পারে, যেখানে দুই পক্ষই সরাসরি বড় সংঘাতে না গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চাপ ও পাল্টা চাপের কৌশল অনুসরণ করবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘স্টেলমেট’ অর্থাৎ এমন অচলাবস্থা, যেখানে কেউই স্পষ্ট সুবিধা আদায় করতে পারে না, আবার পুরোপুরি পিছু হটতেও রাজি নয়।
আরও পড়ুনঃ কিউইদের হারিয়ে আইসিসি র্যাংকিংয়েও নাহিদ-মিরাজদের বড় উত্থান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখতে হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ, নজরদারি ও অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রাখতে হতে পারে। এতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়বে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ক্লান্তি এড়ানো। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ নতুন কোনো দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পক্ষে নয়। ফলে ইরান ইস্যু দীর্ঘায়িত হলে তা আগামী রাজনৈতিক বিতর্কেও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ইরানও পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরান সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়ে আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী, অর্থনৈতিক প্রতিরোধ এবং কৌশলগত ধৈর্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখার নীতি নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অস্থির অঞ্চলে ইরানের প্রভাব থাকায় উত্তেজনা যে কোনো সময় নতুন মাত্রা পেতে পারে।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উভয় পক্ষই এখন একে অপরের পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কে আগে ছাড় দেবে, কে কৌশলগত ভুল করবে কিংবা কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আগে বাড়বে—তা নিয়ে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে সাময়িক শান্ত অবস্থা থাকলেও অন্তর্নিহিত উত্তেজনা কমছে না।







