Home > স্বাস্থ্য > মানসিক রোগ কতটা গুরুতর?

মানসিক রোগ কতটা গুরুতর?

আমাদের আশেপাশের কেউ যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বা অসুস্থ হতে শুরু করে, তখন শুরুতে মানুষ তার সম্পর্কে জানতে পারে না। আসলে, অনেক ধরনের মানসিক রোগ আছে এবং প্রত্যেকেরই বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। প্রাথমিক লক্ষণ দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এই সমস্যাটি কার্যকরভাবে নির্ণয় করা যায়। সচেতনতা ও সঠিক তথ্যের অভাবে রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকে, যার কারণে সমস্যা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে।

সাইকোসিস উদ্বেগজনক
সাইকোসিস একটি গুরুতর ধরনের মানসিক রোগ। এটি এমন একটি রোগ যাতে বাস্তবের সাথে রোগীর সম্পর্ক অনেকাংশে ভেঙে যায়। এর লক্ষণ হল এমন কিছু জিনিস রোগীর কাছে বাস্তব বলে মনে হয়, যা অন্যদের কাছে বাস্তব নয়। সে একটা ভ্রম পায় যে কেউ আমার সম্পর্কে কথা বলছে বা আমার পিছনে বা শত্রু আছে। সে যদি বুঝতে শুরু করে যে অমুক আমার বাড়িতে চুরি করেছে বা কেউ মোবাইল হ্যাক করেছে, তাহলে এটা গুরুতর মানসিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

কিভাবে সমস্যা বুঝতে
এখন প্রশ্ন হলো একজন মানুষ যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে স্বজনরা কীভাবে তা জানবে? লোকেরা সাধারণত প্রাথমিক লক্ষণগুলি বোঝে না বা উপেক্ষা করে না। দুর্ঘটনা ঘটলেই রোগ ধরা পড়ে। দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি অসুস্থ সে বিষয়টি কাউকে জানায় না। যাইহোক, যখন কোনও ব্যক্তি এইভাবে ভিতর থেকে অস্থির হয়, তখন এটি তার প্রকৃতিতেও দেখা দিতে শুরু করে, যেমন রাগ, জ্বালা, দুঃখ বা ভয় ইত্যাদি। তার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে।

এই লক্ষণগুলি চিনুন এবং সতর্কতা বাড়ান
একজন ব্যক্তি ভয়, উদ্বেগ, আতঙ্কে থাকে।
তিনি জনগণ থেকে দূরে থাকতে শুরু করেন বা ভিড়ের মধ্যে বক্তৃতা দিতে থাকেন।
সব কিছুতেই রেগে যান, ঘুম খারাপ হয় বা তার খাদ্যাভাস বদলে যায়।
চিকিত্সা সমাধান হবে
যদি কোনো ব্যক্তির দৈনন্দিন রুটিনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে স্বজনদের সতর্ক হয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা উচিত। ডাক্তার রোগীর সাথে কথা বললে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করবে, রোগের কারণ জানা যাবে এবং চিকিৎসা করলে সে সুস্থ হবে।

বিষণ্নতার সম্পূর্ণ ভিন্ন সমস্যা
সাইকোসিস এবং ডিপ্রেশনকে আলাদাভাবে বুঝতে হবে। বিষণ্নতায় একজন ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করে না বরং নিজের ক্ষতি করে। অন্যের ক্ষতি করা এবং নিজের ক্ষতি করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা যদি ভারতের কথা বলি, আজ দেশের জনসংখ্যার আট থেকে দশ শতাংশ হতাশায় ভুগছে। তুলনামূলকভাবে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে যেমন মাসিক শুরু হওয়া বা গর্ভাবস্থায় শারীরিক পরিবর্তন। বিষণ্নতায় রোগীর মন খারাপ হতে থাকে, বিনোদনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, কাজ করতে ভালো লাগে না, ভালো ঘুম হয় না এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তার মনে হয় জীবন অকেজো হয়ে গেছে।

কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করা যায়
প্রথমত, জীবনধারাকে সঠিক ও ভারসাম্য বজায় রাখুন।
যোগব্যায়াম এবং ব্যায়ামকে রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করুন।
সব ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকুন।
পরিবারের সঙ্গে বিবাদ থাকলে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করুন।
পরিবার বা সমাজের কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না।
মনের মধ্যে কোনো দ্বিধা বা বিভ্রান্তি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
দেশে প্রতিবছর কোটি কোটি মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা সাইকোথেরাপি থেকে উপকৃত হয়।

আরও পড়ুনঃ জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Leave a Reply