Home > স্বাস্থ্য > আলঝাইমার থেকে ডিমেনশিয়া কতটা আলাদা

আলঝাইমার থেকে ডিমেনশিয়া কতটা আলাদা

আজকাল, দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনধারা আমাদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে শুরু করেছে। আজকাল মানুষ শুধু শারীরিক নয় মানসিক সমস্যারও শিকার হচ্ছে। খাদ্যাভ্যাসের অবনতি এবং আমাদের কিছু বদ অভ্যাস এসব সমস্যার প্রধান কারণ। ডিমেনশিয়া এমনই একটি সমস্যা, যা আজকাল অনেক লোককে প্রভাবিত করছে। এটি একটি মস্তিষ্ক-সম্পর্কিত সমস্যা, যা সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষকে প্রভাবিত করে। আসুন আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত সবকিছু জানি-

ডিমেনশিয়া কি?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, ডিমেনশিয়া এমন একটি সমস্যা যা সাধারণত মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং সামাজিক ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এর লক্ষণগুলি রোগীর দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে। ডিমেনশিয়া কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং একজন ব্যক্তির মানসিক কার্যকারিতার অবস্থার বর্ণনা। স্মৃতিশক্তি হ্রাস সাধারণত ডিমেনশিয়ার একটি সমস্যা।

ডিমেনশিয়ার লক্ষণ

জ্ঞানীয় পরিবর্তন

স্মৃতিশক্তি হ্রাস

কথা বলতে বা শব্দ খুঁজে পেতে সমস্যা।

যুক্তি বা সমস্যা সমাধানে সমস্যা

কঠিন কাজ করতে সমস্যা

পরিকল্পনা এবং সংগঠিত সমস্যা

সমন্বয় করতে অসুবিধা

বিভ্রান্তি

মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন

ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন

বিষণ্ণতা

দুশ্চিন্তা

নার্ভাসনেস

অসঙ্গত আচরণ

ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমারের মধ্যে পার্থক্য কী?

ডিমেনশিয়া কোনও রোগ নয়, তবে একজন ব্যক্তির মানসিক কার্যকারিতার অবস্থার বর্ণনা। ডিমেনশিয়া একজন ব্যক্তির মানসিক অবনতিকে বর্ণনা করে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ডিমেনশিয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে আল্জ্হেইমের রোগ এবং পারকিনসন রোগ রয়েছে। আলঝেইমার রোগ ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

স্মৃতিশক্তি হ্রাস মানে কি ডিমেনশিয়া?

স্মৃতিশক্তি হ্রাস ডিমেনশিয়ার একটি সাধারণ লক্ষণ। যাইহোক, এটি মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা যে স্মৃতিশক্তি হ্রাস মানে সবসময় ডিমেনশিয়া। স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। ডিমেনশিয়া যে একমাত্র কারণ তা কোনো নিশ্চিতকরণ নেই।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে শুরু করে। যাইহোক, এই পরিবর্তনগুলি দৈনন্দিন জীবনে হস্তক্ষেপ করে না। বিপরীতে, ডিমেনশিয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে। এই সমস্যায় ব্যক্তি ছোট ছোট জিনিস ভুলে যায়।

ডিমেনশিয়া কি প্রতিরোধ করা যায়?

ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করা যায় না, তবে আপনার জীবনে কিছু পরিবর্তন করে এর ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। কোলেস্টেরল গঠন রোধ, রক্তনালী পরিষ্কার রাখা, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা, রক্তে শর্করার মাত্রা সুস্থ, স্বাস্থ্যকর ওজন ইত্যাদির মাধ্যমে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

আরও পড়ুনঃ পাশের দেশ চাঁদে যাচ্ছে, আমরাও যাব: প্রধানমন্ত্রী

Leave a Reply